1. sylhetbbc24@gmail.com : admin : Web Developer
  2. marufmunna29@gmail.com : admin1 : maruf khan munna
  3. faisalyounus1990@gmail.com : Abu Faisal Mohammad Younus : Abu Faisal Mohammad Younus
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

সেই সাহেদ ‘সিলেটী জামাই’, গোয়েন্দাদের নজর সিলেটে

  • সিলেট বিবিসি ২৪ ডট কম : জুলাই, ১২, ২০২০, ৪:৫৪ am

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :: সাহেদ করিম উরফে ‘করোনা সাহেদ’ সিলেটের জামাই। তার ‘সিলেট কানেকশন’ খুঁজে পাওয়ায় নড়ে চড়ে বসেছেন গোয়েন্দারা। ‘করোনা সাহেদ’ পালিয়ে সিলেট আসতে পারেন- এমন সন্দেহে সিলেটের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার অবস্থার চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহেদ করিম উরফে ‘করোনা সাহেদ’ এর ২য় শশুড়বাড়ি সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের মোগলাবাজার থানার পাঠানপাড়ায়। তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর পৈত্রিক বাড়ি সিলেট থাকলেও বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় বেড়ে ওঠেছেন। সাদিয়া আরবী ওরফে রিম্মি সাহেদ করিমের ২য় স্ত্রী। রিম্মির পিতা ইয়াসিন আরবীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান। ঢাকায় স্থায়ী হওয়ায় সিলেটের সাথে খুব একটা যোগাযোগ নেই রিম্মি বা তার পরিবারের। ইয়াসিন আরবী ছিলেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার স্ত্রী অর্থাৎ সাহিদা আরবী ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক। তাদের ২ কন্যা সন্তান- রিম্মি ও শাম্মী। স্বামী ইয়াসিন আরবী মারা যাবার কিছু দিন পর সাহিদা আরবী ঢাকার এক প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতিকে বিয়ে করে ঐ পরিবারে চলে যান। তবে, রিম্মি ও শাম্মী থাকেন পিতা ইয়াসিন আরবীর বাসাতেই। বিয়ের পর সাহিদা আরবী নিজের পদবীও পরিবর্তন করে হয়ে যান সাহিদা আলম।

    বড় মেয়ে রিম্মির পুরো নাম সাদিয়া আরবী। মা সাহিদা আরবী বিটিভির সংবাদ প্রযোজক হওয়ার সুবাদে বিটিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে সুযোগ পান সাদিয়া আরবী।

    করোনা সার্টিফিকেট জালিয়াতির পর স্বামীর অপকর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবী করেন সাদিয়া আরবী।

    স্বামীর অপকর্মসম্পর্কে জানতেন না- এমন দাবী করলেও উচ্চবিলাসী সাদিয়া সম্পর্কেও পাওয়া গেছে নানা তথ্য। এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল সাদিয়ার। সেই স্বামীর ঘরে সাদিয়ার এক কন্যা সন্তান্তও রয়েছে। ঐ স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থাতেই প্রতারক সাহেদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে সাদিয়ার। সাহেদের সম্পদের চাকচিক্য আকৃষ্ট করে সাদিয়াকে। প্রথম স্বামীর সাথে ভাঙ্গন ধরে। এক কন্যা সন্তান রেখে প্রতারক সাহেদের সংসারে পাড়ি দেন সাদিয়া। বনানী ডিওএইচএস-এর ৪নং রোডের ৯নং বাসায় সাহেদ করিমের সংসারে থিতু হন রিম্মি। ৩ হাজার ৬শ’ বর্গফুটের বিশাল এই ফ্লাটে মাসে ৯০ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন সাহেদ।

    জানা গেছে, প্রতারক সাহেদেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। সাহেদ করিমের সংসারে সহধর্মীনী হবার সুবাদে সরকারের একেবারে শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছাকাছি থাকার সুযোগ পান সাদিয়া ওরফে রিম্মি। বিলাস বহুল জীবন উপহার পান। কিন্তু, রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের পর আত্মগোপণে চলে যান প্রতারক সাহেদ করিম। বোল পাল্টে ফেলে স্বামীর অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন সাদিয়া।

    জানা গেছে, সিলেটে বাড়ি হলেও সাদিয়ার একমাত্র পৈত্রিক ভিটা ছাড়া তার পিতা ইয়াসিন আরবীর আর কোন সম্পদ নেই। সরকারী চাকুরীর কারণে অধিকাংশ সময়ে ইয়াসিন আলীর কেটেছে ঢাকাতেই। তার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়। নগরীর দক্ষিণ সুরমায় পাঠানপাড়ায় ইয়াসিন আরবীর পিতৃ ভিটা। সম্প্রতি সেটেলমেন্ট জরিপে একটি পুকুরসহ প্রায় দেড় কেদার ভূমি রেকর্ড হয় রিম্মি ও শাম্মীর নামে। ছোট বেলায় পিতার সাথে ঈদ-পরবে সিলেটে বাবার বাড়িতে আসতেন রিম্মি ও শাম্মী। এরপর সিলেটের সাথে যোগাযোগে ভাটা পড়ে। রিম্মি-শাম্মীর আপন চাচাতো ভাই সিলেটের একটি রাজনৈতিক দলের বড় নেতা।

    করোনা সার্টিফিকেট জালিয়াতির হোতা রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতারক সাহেদ করিমের সিলেট কানেকশনের খবর শনিবার জানতে পারে সিলেটের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর, এ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর শুরু হয়। ‘করোনা সাহেদ’ পালিয়ে সিলেটে আত্মগোপণ করতে পারেন- এমন সন্দেহে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের আইন শৃংখলা রক্ষকারী বাহিনীর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর প্রতারক সাহেদের অবস্থান জানতে স্ত্রী রিম্মির সাথে যোগাযোগ করে আইন শৃঙ্খল বাহিনী। সে সময় রিম্মি জানান, হাসপাতালে অভিযানের রাতে (৬ জুলাই) তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তখন সাহেদ বলেছিলেন, ‘রাতে ফিরব না। যেখানে আছি, সেইফ আছি।’

    সাদিয়া আরবী গণমাধ্যমকে বলেন, টিভিতে র‌্যাবের অভিযানের খবর দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। অভিযানের আগ পর্যন্ত রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়মের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর তিনি নিজেও অনেককে ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আসতে বলেছেন। সাদিয়া মনে করেন, যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া র‌্যাব এই অভিযান পরিচালনা করেনি।

    কোভিড রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুর শাখা। আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল আসামি মো. সাহেদ।

    সাদিয়া বলেন, তাঁর বড় মেয়েটি কিশোরী। টেলিভিশনে এসব খবর দেখে সে খুব বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। স্বামী অপরাধী হলে তিনিও বিচার চান।

    সোমবার র‌্যাব রিজেন্ট গ্রুপের মালিকানাধীন দুটি হাসপাতালের কর্মকাণ্ডের কিছু প্রমাণ জাতির কাছে হাজির করে। হাসপাতাল দুটিতে করোনার নমুনা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হতো। বিনা মূল্যে চিকিৎসার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত। ২০১৪ সালের পর লাইসেন্স নবায়ন না করেই হাসপাতাল দুটি চালানো হচ্ছিল। আর করোনা সংক্রমণের পর থেকে সাহেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো নম্বরবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছিলেন।

    টাকার বিনিময়ে করোনা সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে গত মঙ্গলবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

    বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর আসতে থাকে, এই সাহেদ করিম আদতে একজন প্রতারক। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের যে পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তাঁকে প্রভাবশালী বলেই মনে হয়।

    সিলেটবিবিসি / ১২ জুলাই ২০ / – –

    facebook comments












    © All rights reserved © 2020 sylhetbbc24.com
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ