1. sylhetbbc24@gmail.com : admin : Web Developer
  2. marufmunna29@gmail.com : admin1 : maruf khan munna
  3. faisalyounus1990@gmail.com : Abu Faisal Mohammad Younus : Abu Faisal Mohammad Younus
বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২৮ অপরাহ্ন

লাইনে ত্রুটি থেকে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন

  • সিলেট বিবিসি ২৪ ডট কম : নভেম্বর, ২০, ২০২০, ১২:৩৩ pm

    • ক্ষতি ২০ কোটি টাকার বেশি
    • এখনও দুর্ভোগে অনেক গ্রাহক

    সিলেটের কুমারগাঁও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) উপকেন্দ্রে বাইরের লাইনে ত্রুটি থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্ত কমিটি।

    আগুনে পুড়ে যেসব যন্ত্রপাতি ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। তবে তৎকালীন (যখন এসব ক্রয় করা হয়) ক্রয়মূল্য অনুযায়ী যন্ত্রপাতির দাম দুই থেকে তিন কোটি টাকা হতে পারে।

    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য মুস্তাক মুহাম্মদ বৃহস্পতিবার কুমারগাঁও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির উপকেন্দ্রে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আমরা সরেজমিন তদন্ত করে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেব। এতে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

    এর আগে উপকেন্দ্রে আগুনের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) রহমত উল্লাহ মো. দস্তগীরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিউবো।

    কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, পিডিবির সদস্য (পিঅ্যান্ডডি) মুস্তাক মুহাম্মদ, পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (ওঅ্যান্ডএম) মাসুম আলম বকসি, পাওয়ার সেলের পরিচালক (সাসটেইনেবল এনার্জি) আবদুর রউফ মিয়া।

    বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

    এদিকে উপকেন্দ্রে আগুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবারও নগরীর অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে বাসা-বাড়ি, মসজিদ, জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলোয় পানিসহ নানা সংকট সৃষ্টি হয়। বিদ্যুতের অভাবে অনেক গৃহস্থালি কাজ ব্যাহত হয়।

    হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ জরুরি সেবা বিঘ্নিত হয়। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় যানবাহন জ্বালানি সমস্যায় পড়ে। বিশাল এলাকায় জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়া, ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে।

    সকাল থেকেই পানির খোঁজে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় মানুষ। নগরীর পুকুরগুলোয় হুমড়ি খেয়ে পড়ে নিু ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কেউ কেউ জেনারেটরের ব্যবস্থা করে পানি তুলে প্রতিবেশীদের সরবরাহ করেছেন।

    যেসব বাড়িতে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে, সেসব বাড়ির সামনে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার উপকেন্দ্রে আগুনের ঘটনায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্রাহক। মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে সেদিন বিকাল থেকেই।

    বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ থাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সরবরাহ পাম্পগুলোও। ভোগান্তি চরমে পৌঁছলে বুধবার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চালায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

    ৫টির মধ্যে চারটি জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি মেরামত ও পুনঃস্থাপন শেষে বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমরা সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি।

    এখনও কর্মীরা গ্রিড লাইনে মেরামত কাজ করছেন। ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে পুরোপুরি কাজ শেষ করে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব।

    উপকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের শতাধিক কর্মী ট্রান্সফরমার মেরামতে ব্যস্ত। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য টানা দু’দিন শ্রমিকরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

    কাজ তদারকি করছে প্রকৌশলীসহ বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ টিম। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে অংশ নেয়া অনেকের কাছেই হেলমেট ও সেফটি শু নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, পেটের দায়ে কাজ করি।

    আমাদের নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবে না। আমরা মরলেও কারও কিছু যায় আসে না। এখন যেসব যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হচ্ছে বা লাগানো হচ্ছে, সেগুলো সঠিকমানের কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলেও জানান ওই শ্রমিক।

    সিলেটবিবিসি/রাকিব/ডেস্ক/যুগান্তর/নভেম্বর ২০,২০২০

    facebook comments












    © All rights reserved © 2020 sylhetbbc24.com
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ