1. sylhetbbc24@gmail.com : admin : Web Developer
  2. marufmunna29@gmail.com : admin1 : maruf khan munna
  3. faisalyounus1990@gmail.com : Abu Faisal Mohammad Younus : Abu Faisal Mohammad Younus
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

কেনাকাটায় দুর্নীতি: শেখ হাসিনা মেডিকেলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

  • সিলেট বিবিসি ২৪ ডট কম : আগস্ট, ১৭, ২০২০, ৫:৩৯ am

  • প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ :: হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রোববার(১৬ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি করা হয়- হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান ও নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আফসানা ইসলাম কাকলীকে। দুদকের হবিগঞ্জের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে বলে কমিশনের জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

    মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহায়তায় অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভের জন্য প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে উচ্চ মূল্য দেখিয়ে বইপত্র ক্রয় করে সরকারের ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

    অপর মামলাটি করেছেন- দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান বাদি হয়ে অপর মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায়ও হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবু সুফিয়ান ও পুনম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী এসএম নজরুল ইসলাম নুতনকে আসামি করা হয়।

    এ মামলার উল্লেখ করা হয়- অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহায়তায় অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভের জন্য প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে উচ্চমূল্য দেখিয়ে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে সরকারের ২ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

    প্রসঙ্গত- হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রায় ১৫ কোটি টাকার টেন্ডারের অর্ধেকই হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ভ্যাট ও আয়কর খাতে সরকারি কোষাগারে জমা হয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ৯৭ হাজার ৭৪৮ টাকা। আর মালামাল ক্রয় বাবদ ব্যয় দেখানো হয় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার ১০৯ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ওই মালামালের মূল্য ৫ কোটি টাকা হবে কি-না সন্দেহ। এমনটাই বলছে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। বাকি টাকার পুরোটাই ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর জন্য বই, সাময়িকী, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি কিনতে ২০১৮ সালে আহবান করা হয় দরপত্র। এ লক্ষ্যে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান স্বাক্ষরিত আদেশে ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. শাহীন ভূঁইয়াকে সভাপতি করে গঠন করা হয় তিন সদস্যের বাজার দর যাচাই-বাছাই কমিটি।

    দরপত্রে অংশ নেয় সাতটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মূল্যায়ন রিপোর্টে সদস্যদের স্বাক্ষর ছাড়াই অদৃশ্য হাতের ইশারায় ঢাকার শ্যামলী এলাকার বিশ্বাস কুঞ্জছোঁয়া ভবনের ‘নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ’ ও মতিঝিলের মঞ্জুরি ভবনের পুনম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    তথ্য মতে, সরবরাহ করা মালামালের মধ্যে ৬৭টি লেনেভো ল্যাপটপের (মডেল ১১০ কোর আই ফাইভ, কিং জেনারেশন) মূল্য নেয়া হয় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫শ’ টাকা। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ’ টাকা। অথচ ঢাকার কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ফ্লোরায় একই মডেলের ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪২ হাজার টাকায়। ৬০ হাজার টাকার এইচপি কালার প্রিন্টার (মডেল জেড প্রো এম ৪৫২এন ডব্লিউ)-এর দাম নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯শ’ টাকা। এছাড়াও ৫০ জন বসার জন্য কনফারেন্স টেবিল, এক্সিকিউটিভ চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। জনপ্রতি চেয়ার-টেবিল ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যয় পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪শ’ টাকা। চেয়ারগুলোতে ‘ইয়ামিন ফার্নিচার’ লেখা থাকলেও টেবিলগুলো কোন প্রতিষ্ঠানের তার কোনো স্টিকার লাগানো নেই।

    খবর নিয়ে দেখা যায়, দেশের নামিদামি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান হাতিল ও রিগ্যালে এসব চেয়ারের মূল্য ওই দামের অর্ধেকের চেয়েও কম। শুধু তাই নয়, অত্যন্ত সাধারণ মানের ১৫টি বুক সেলফের মূল্য ৬ লাখ ৬০ হাজার, ৫টি স্টিলের আলমারি ২ লাখ ৮৫ হাজার, ১০টি স্টিলের ফাইল কেবিনেট ৪ লাখ ২২ হাজার, ২৫টি স্টিলের র‌্যাক ১৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ও ৬ হাজার ৪৭৫টি বইয়ের জন্য বিলে দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৬৬৪ টাকা। একইসঙ্গে বিলে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ১০৪টি প্লাস্টিকের মডেলের মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৩ টাকা দেখানো হয়েছে। দেশের বাজারে ‘পেডিয়াট্রিক সার্জারি’ (২ ভলিয়মের সেট) বইটির দাম ৩৩ হাজার টাকা হলেও নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ দাম নিয়েছে ৭০ হাজার ৫৫০ টাকা।

    এদিকে মতিঝিলের মঞ্জুরি ভবনের পুনম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে ৮১টি কার্লজিস প্রিমো স্টার বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করেছে। যার মূল্য নিয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৩২৫ টাকা। অথচ এর বাজার মূল্য ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩শ’ টাকা। পুনম ইন্টারন্যাশনাল এসি’র দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা দরে ৩১টির মূল্য নিয়েছে ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ওয়ালটনের যে মডেলের ফ্রিজ ৩৯ হাজার ৩৯০ টাকা, একই কোম্পানি ওই একই মডেলের ফ্রিজের মূল্য দেখিয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। এ রকম ছয়টি ফ্রিজ কেনা হয়। ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল ওয়েইং (ওজন মাপার যন্ত্র) মেশিনের দাম নেয়া হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যার বাজার মূল্য ৪০ হাজার টাকা করে। এছাড়া মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি সংবলিত কাগজে ছাপা চার্ট বাজারে ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় পাওয়া গেলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি চার্ট কিনেছে ৭ হাজার ৮শ’ টাকা দরে। এ রকম ৪৫০টি চার্ট ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় পাওয়া যায় ‘স্টারবোর্ড’ নামে হিটাচি কোম্পানির ৭৯ ইঞ্চির ইন্টারেক্টিভ বোর্ড। কিন্তু একই কোম্পানি ওই মডেলের ইন্টারেক্টিভ বোর্ডটি ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেখিয়েছে।

    সিলেটবিবিসি/১৭ আগস্ট ২০/রাকিব

    facebook comments












    © All rights reserved © 2020 sylhetbbc24.com
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ