1. sylhetbbc24@gmail.com : admin : Web Developer
  2. marufmunna29@gmail.com : admin1 : maruf khan munna
  3. faisalyounus1990@gmail.com : Abu Faisal Mohammad Younus : Abu Faisal Mohammad Younus
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

এমসি কলেজে সাংবাদিক দেখলে গা জ্বলতো ক্যাডার ও ‘ধর্ষক’ সাইফু্রের

  • সিলেট বিবিসি ২৪ ডট কম : সেপ্টেম্বর, ৩০, ২০২০, ১:৩৪ pm

  • মায়রুফ আহমদ খান :: এমসি কলেজ ক্যাম্পাস। চোখ বন্ধ করে এমসি কলেজের দৃশ্য কল্পনা করলে ভেসে উঠে সবুজে ঘেরা এমসির মাঠ, পুকুর পাড়ের দৃশ্য, অট্টালিকা দালান কোঠা, ক্লাসরুম আরও কতো কি। এমসি কলেজকে বলা হয় সিলেট বিভাগের মন্ত্রী বানানোর সূতিকাগার। দেশের মন্ত্রী-এমপি-সচিব-সরকারী কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ এই কলেজেই শিক্ষাজীবন পার করে কতো রথী-মহারথী দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন।

    তবে মুদ্রার এপিঠের পাশে উল্টো পিঠও রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়কালের বিগত কয়েকবছরের কর্মকান্ডে এমসি কলেজের নাম শুনলেই মনে ভীতি সঞ্চার হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুনোখুনি, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইভিটিজিং, ছিনতাই, শিক্ষক নির্যাতন, সাংবাদিক নির্যাতন, ছাত্রাবাস পোড়ানো কিংবা এমসি কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম এবং সর্বশেষ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক স্বামীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নববধুকে গণধর্ষণ যেনো এমসি কলেজে অপকর্মের ষোলকলা পূর্ণ করলো এমসি কলেজের নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সবচেয়ে রুঢ় ও কঠিন বাস্তবসম্মত বিষয় হচ্ছে এমসি কলেজে এসব অপকর্মের শুরু হয়েছে ২০০৮ সাল থেকেই এবং সবগুলো ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছাত্রলীগ নামধারী কিছু বখাটে। যারা টিলাগড় কেন্দ্রিক গ্রুপিং রাজনীতির ফায়দা নিয়ে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে সিলেট এমসি কলেজ তথা পুরো সিলেট ছাত্রলীগকে দীর্ঘদিন ধরে কলুষিত করে আসছিল।

    গত (২৫ সেপ্টেম্বর) শুক্রবারের  ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী সাইফুর গ্রেফতার হওয়ার পরে বের হয়ে আসছে তার এবং এমসি কলেজে ছাত্রলীগের নানা কর্মকান্ড। শুধু সাইফুরই নন, ইভটিজিং, মেয়েদের নির্যাতন, সাংবাদিক নির্যাতন, ছিনতাই, চাদাবাজি, ফাও খাওয়াসহ জোরপূর্বক ছাত্রাবাসে থাকাসহ নানা অভিযোগ এমসি কলেজের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর বেশীরভাগই আওয়ামী দলীয় লোকদের। অন্যদলের এরা তো অভিযোগ করারও সাহস করতে পারে না এই টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে। এমসি কলেজ কিংবা টিলাগড়ে ছাত্রলীগের যেকোন অপকর্মে ত্রাণকর্তা হয়ে ঠিকই তাদের রক্ষা করেন তাদের ‘গডফাদার’।

    এমসি কলেজের অপকর্মের সব ঘটনা আপনাদের (সিলেটবাসীসহ দেশবাসীর) জানা আছে। তারপরেও শুধুমাত্র এই সাইফুর এবং সাইফুরদের গডফাদারদের গ্রুপের ক্যাডারদের কাছে এই এমসি কলেজেই যে কয়েকজন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার কয়েকটা (সবগুলো নয়) ঘটনা আমি উল্লেখ করতে চাচ্ছি।

    এই ধর্ষক সাইফুর ২০১৪ সালে সিলেটের উদীয়মান সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের উপর হামলার ঘটনায় করা  মামলার প্রধান আসামী। শাহপরান থানায় আব্দুল্লাহ আল নোমান বাদি হয়ে ২০১৪ সালে মামলা (নং-১০(১০)১৪) করেন।মামলায় সাইফুর রহমান ওরফে সাইদুল, অভি, প্রিতম, মুহিব, শাহ মোজাম্মেল হক, শান্তসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) একাডেমিক কাজে এমসি কলেজে যান নোমান। বেলা সোয়া ১টার দিকে ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়ামের সামনে ওৎ পেতে থাকা হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের সন্ত্রাসী সাইফুর রহমান ওরফে সাইদুল, অভি, প্রিতম, মুহিব, মোজাম্মেল ও শান্তসহ সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করেন। সাইফুরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা এসময় মুস্টিরিং, বেল্ট, লোহার রড, হকি স্ট্রিক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিঠ করে রক্তাক্ত জখম করে।

    ২০১৯ সালে এমসির ক্যাম্পাসে সে এক সাংবাদিককে শাসিয়েছিলো এমনকি শরীরে হাত তুলারও চেষ্টা করেছিলো। এমসি কলেজের রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আজহার উদ্দিন শিমুলের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এমনটিই জানান। এছাড়া, এমসি কলেজের রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফ আহমদও গত ২৬সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমসি কলেজের ভিতরে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী-বখাটেদের যে উৎপাত কতোটুকু তীব্র সেটিও তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে জানিয়েছেন।

    পাঠকদের সুবিধার্থে ফেসবুকের পোস্টগুলো হুবহু তুলে ধরে হলো-

    আজহার শিমুলের পোস্টঃ
    সাইফুর
    যেভাবে সন্ত্রাসী ধর্ষক হয়ে ওঠে!
    সাইফুর রহমান। যার চেহারার মধ্যেই ফুটে আসে ভয়ংকর এক সন্ত্রাসীর সংস্করণ। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে তার হাত ছিলো না। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখল, সিট বানিজ্য, খাবারের টাকা না দেওয়া, ক্রীড়া সামগ্রীর জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়া, সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি, মারধর, গালাগালি, মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের শারীরিক মানসিকভাবে লাঞ্চিত করা ছিলো তার নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। ছাত্রাবাসের পাশের বাজার বালুচরে সে কখনো টাকা পরিশোধ করতো না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে সে দলবল নিয়ে রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন দোকানে খাওয়া দাওয়া করতো। তার বিরুদ্ধে বাকিতে খাওয়ার এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভয়ে এতদিন চুপসে ছিলেন সেখানের ব্যবসায়ীরা

    শুধু রেস্টুরেন্টে নয়, সাইফুর টিলাগড় বালুচরের সেলুনগুলোতে টাকা না দিয়েই চুল দাড়ি কাটতো। টাকা চাইলে দোকান ভাংচুরের ভয় দেখাতো। এতো গেলো তার ছাত্রাবাসের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আমলনামা। এবার আসি কলেজ ক্যাম্পাসে সে কি করতো! কলেজের এমন কোনো নিয়মিত ছাত্রী নাই যে তাকে আজরাইলের মতো ভয় পেতো না! ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের ইভটিজিং করা ছিলো তার নেশা। এক ছোট বোন একটু আগে কল দিয়ে জানালো, সে নাকি একবার ধর্ষণের ভয় দেখিয়েছিলো। তারপর থেকে ছোট বোনটি দেড় বছর ক্যাম্পাসে আসেনি। আসলেও হাত মোজা কিংবা বোরকা পড়ে চুপিসারে আসতো!

    মেয়েদের ওড়নায় টান দেওয়া ছিলো তার খুব সাধারণ একটি কাজ। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ এর দুটি পক্ষ বিব্রত থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা কখনোই নেওয়া হয় নি। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আমার এক সহকর্মীকে গেলো বছর সে শাসিয়েছিলো। হাতও তুলতে চেয়েছিলো। আমি থাকায় সে আর সাহসটা করেনি। পরে সে দলবল নিয়ে টিলাগড়ের ভুট্টো রেস্টুরেন্টে ক্ষমা চেয়ে যায়! সাইফুরের বিরুদ্ধে প্যান্টের বেল্ট খুলে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। তাকে সবসময় সঙ্গ দিতো তার সাথে থাকা ছেলেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র আমাকে জানান, ২০১৮ সালে তিনিসহ তার বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনের সামনে। সময় সাইফুর এসে তাদের সাথে থাকা মেয়ে বন্ধুটিকে উত্যক্ত করেন। সবাই প্রতিবাদ করলে সাইফুর সবাইকে বেধড়ক প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঠাতে থাকে। লজ্জা, আত্মসম্মান ক্ষতাসীনসাইফুরের ভয়ে শিক্ষার্থীরা কাউকে এই বিষয়ে বলেন নি। ঘটনা শুনে মেয়েটির গরীব অভিভাবক তাড়াহুড়ো করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। এভাবেই শত মায়ের, বাবার, ভাইয়ের, বোনের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সাইফুর। এভাবেই তার সন্ত্রাসী জীবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিলো। মোটর সাইকেল নিয়ে নিয়মিত মহড়া দিতো ক্যাম্পাসে সে। ইচ্ছা করেই সে অনেক ছেলেমেয়েদের ধাক্কা দিতো। শুধুমাত্র ভয়ে কেউ কিছু বলেন নি। তাকে যারা লালন পালন করতো তাদের কাছেও অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যেতো না করোনার পূর্বে প্রতিদিনই এমসি কলেজের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে শত শত মানুষ আসতেন। সেখানেও বিভিন্ন পন্থায় দল নিয়ে ছিনতাই করতো সাইফুর! ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতো তার দখলকৃত ছাত্রবাসের বাংলাতো।

    সর্বশেষ সে গত শুক্রবার যে কাজটি করেছে সবাই তা জেনে গেছেন। এর আগেও সাইফুর তার গংদের দ্বারা অনেক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ রোববার সকালে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জের ছাতকে সাইফুর গ্রেফতার হয়েছে। অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন। এই স্বস্তি যাতে জীবনভর সবাই ফেলতে পারেন সেই ব্যবস্থাই প্রশাসন করবে বলে বিশ্বাস করছি। রকম সাইফুর হয়তো সময়ের সাথে সাথে এমসি কলেজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে তৈরী হয়ে যাবে। ক্ষমতার লোভ রকম সাইফুর তৈরী করছে। প্রত্যাশা করি রকম সাইফুর আর সবুজ ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠার সাহস পাবে না। আমার ক্যাম্পাসের প্রতিটি বোনভাই শিক্ষকরা যাতে রকম সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদ থাকেন সেটাই কামনা কর করি। আলো আসবেই।
    আজহার উদ্দিন শিমুল, সাধারণ সম্পাদক,
    এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি, সিলেট
    ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২০

    আশরাফ আহমদের পোস্টঃ
    জানেন কি এমসি কলেজের ভেতরে কি হয়? প্রশাসনই বা কেন নিরব থাকে? হুম.. চলুন কিছুটা ধারণা দেওয়া যাক

    গতকাল রাত থেকে শুরু হয়েছিল। কলেজের কীটদের অতীত আর বর্তমানের আমলনামা টাইপিং করতে করতে হাতে ব্যাথা করছে আমার। সবে সকাল হয়েছে, রাজশাহী থেকে এক সহকর্মী ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কলেজের আপডেট কি ভাই? একটু পরেই সিলেটের আরেক সাংবাদিকদের ফোন, নতুন কিছু পেলে একটু জানিও আশরাফ। খাবার খেতে বসেছি ডিজিএফআইয়ের এক এস আই ফোন দিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করেন। টাইপের সাথে সাথে এখন অবধি ৬৯টার মতো কল রিসিভ করতে হয়েছে আমাকে। মাথা কাজ করছে না আমার

    এমসি কলেজ। যেটাকে বরাবরই বলি, আমার ক্যাম্পাস। হুম আমার ক্যাম্পাস। কারণ ২০১৬ থেকে ২০। চার বছর ধরে এই কলেজে সাংবাদিকতা করে আসছি আমি। যেকারণে এখানটার অন্য ১০টা শিক্ষার্থী থেকে একটু বেশিই আবেগ কাজ করে। এর ১৪৪ একরের অধিকাংশ সম্পর্কেই অবগত আমি।একেবারে অধ্যক্ষের রুম থেকে শুরু করে বালুচরের শেষ সীমানা পর্যন্ত। কে কোথায় কি করছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এর অধিকাংশই জানতে পারি আমি। আমাদের চোখের সামনেই এই কলেজ জাহেলি যুগের অনেক দৃশ্য ঘটে। এমনিতে তো কতোই না ভাল এমসি কলেজ! হুম সবাই এটাই বলে। দুর থেকে মানুষ যা দেখে তাই তো বলবে, তাইনা? আজ সত্যির কিছুটা উল্লেখ করছি। এখানকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাক স্বাধীনতা নেই। নেই অভিযোগ দেওয়ার জায়গাও। চলুন ব্যাখ্যা করে বুঝাই।

    এখানকার শিক্ষার্থীরা সত্যিই অসহায়। নিউজে বাস্তবটা তুলে ধরতে চাইলে, আমাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছু লিখতে গেলেই মানুষ গড়ার কারিগরদের কাছ থেকেই বিভিন্নভাবে ছাত্রত্ব বাতিল করে দেওয়ার হুমকি পাই,( যে গল্পগুলো আমরাই জানি কেবল) তারপরও মাঝে মধ্যেই আমরা নিউজ করি। ক্যাম্পাসের অবস্থা তুলে ধরার অপরাধে আমাদের উপর হামলা হয়। আমরা আক্রন্ত হই। নিরব থাকে এমসি প্রশাসন।

    ২০১৬ সালের ঘটনা।গায়ে টাচ লাগার কারণে আমার এক বন্ধুকে বেদরুক মার শুরু করে আজকের অভিযুক্ত শাহ রনি নামের অপরাধীটা। আজকে যারা রনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই ঐদিন কিছু না শুনে রনির হয়ে আমার বন্ধুটার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল!!

    ২০১৮ সালের ঘটনা। মোহনার বসন্ত বরণ উৎসবে হামলা করে সরকারি এমসি ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। তার ছবি তুলতে গেলে আমাদের ক্যামেরাম্যান কে প্রচন্ড ভাবে আঘাত করে। ক্যামেরা ভাংচুর করে। বাদ যায়নি সাংবাদিকরাও। পরে তাদের গডফাদাররা অফিসে গিয়ে বিষয়টি শেষ করে। আমাদের নেতাদের পায়ে ধরে, হুম পায়ে ধরে ভবিষ্যতে এরকম কাজ না করার মুসলেকা দিয়ে আসে। তখনও নিরব ছিল এমসি প্রশাসন।

    ২০১৯ সালের ঘটনা। ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে থাকা বহিরাগতদের নিয়ে নিউজ করি। আমার উপর ক্ষেপে যায় ছাত্রলীগ নামধারী কিছু জারজ সন্তান। আজকের ঘটনার মূল হোতা সাইফুর আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।ঐদিন হুমকি না দিলেও তার সাথে ছিল শিহাবসহ ছাত্রলীগের আরেক নেতা। হুমকির কথা শুনে নিরব থাকি আমি। বিষয়টা তখন সিলেটের অনেক সাংবাদিকদের কানে পৌঁছে গেছে। পরে তাদের গডফাদারের হুংকারে এইদিন বিকেলেই ছাত্রলীগ নেতা হুসাইন আহমেদ সহ সাইফুর এসে ঘটনার জন্য আমার কাছে মাফ চায়। মানবিক কারণে বিষয়টা বড় করিনি আমি

    ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা। আজকের ঘটনায় অভিযুক্ত এক পশু আমার এক সহপাঠীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সে রাজী না হওয়ার রাস্তাঘাটে তাকে বিরক্ত করতে থাকে। এর কদিন পরেই হুমকি দেয় প্রেমে রাজী না হলে কলেজ আসতে পারবি না বলে। তার এক ছোট ভাইকেও দেখে নেওয়ার হুংকার দেয়। সহপাঠী বিষয়টা আমার সাথে শেয়ার। পরে ছাত্রলীগের গডফাদারের সাথে সরাসরি বিষয়টা নিয়ে আলাপ করলে আমার সহপাঠীর কাছে মাফ চায় এমসি ছাত্রলীগের পশুটা

    ২০১৭ সালের ঘটনা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এমসি কলেজে আসবেন। কলেজ ছাত্রলীগ তাকে নিয়ে মিছিল করবে। এরজন্য ছাত্রদের কে ক্লাস থেকে ঢেকে ঢেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। নিউজ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পাসের গেইটেই আমরা অবস্থান করছি। আজকের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের মাহফুজ নামের অপরাধীটা হঠাৎই দেখলাম একটা ছাত্রকে চড়থাপ্পড় মেরে মেরে প্রশাসনিক ভবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর পাশে থাকা জন সেটা দেখেছে আর হাসছে। দৌড়ে গিয়ে ঘটনা কি জানতে চাইলে, শিক্ষার্থী বলেভাই আমার খালা রাকিব আলি মেডিকেলে ভর্তি এখনই যাওয়ার জন্য কল দিছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের ভাই ইটা বিশ্বাস কররা না, মিছিলে এখন যাইতাম পারতাম না কইছি দেখি আমারে মাররা।

    ছাত্রলীগ করে বলে নিজ ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের সাথে প্রভাব খাটায়। শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করে। ২০১৯ সালের নভেম্বরের ঘটনা। মতের বিরুদ্ধে গেলে আমরা এক বন্ধুকে এক সহপাঠী কলারে ঝাপটে ধরে।বড়ভাইদের নিয়ে মারতে আসে। পরে বিষয়টা শেষ করি।আমার মনে হয় এমসি কলেজের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টই এমন ভাবে আক্রান্ত হয়। তারপরও কেউ মুখ খুলে না। মেরে ফেলার ভয়। আক্রান্ত হবার ডরে

    বাংলাদেশের ইতিহাস ঘেঁটে ছাত্রলীগের প্রতি অন্যরকম একটা ভালবাসা ভাললাগা কাজ করতো আমার। বাট দুচারজন ছাড়া এখানকার বা এমন ছাত্রলীগ কে আমি ঘৃণা করি। থুথু দেই।

    একরকম শতক ঘটনা আমার সামনেই ঘটেছে। যার কোন ইয়ত্তা নেই। হয়নি কোন স্থায়ী সমাধানও।

    খুব কাছ থেকেই থেকেই দেখছি কলেজের কোন কাজে সাধারণ একটা শিক্ষার্থী গেলে কেমন আচরণ করা হয়। অথচ কত নরম সুরেই না কথা বলে ওরা। তারপরও অধ্যক্ষের অফিস থেকে শুরু করে কোথাও কাঙ্খিত গুরুত্ব পায় না এমসিয়ানরা

    ওপর দিকে টেবিলে তাবড়িয়ে কথা বলা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের জামাই আদর করা হয়। কেন করা হয় জানি না আচ্ছা আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড কি কখনো বলে যে ছাত্রলীগকে খুশি করেই সবাইকে চলতে হবে??? স্বাধীনতার পক্ষের দলটি কাছ থেকে এমন আচরণ কোনদিনই আসবে না। এটা আমার বিশ্বাস।

    তাইলে কেন ছাত্রলীগের কাছে এতো হেট হয়ে চলতে হয় আপনাদের??

    আপনাদের নতজানু নীতির কারণেই সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আক্রান্ত হয় আমার ক্যাম্পাস।

    আমার ক্যাম্পাসের বেড়াতে এসে মায়ের জাতের প্রতিনিধিটা আজ ধর্ষণের স্বীকার হয়! আমার ক্যাম্পাসের ১২৮ বছরের ঐতিহ্য আর সুন্দর্য আজ কেন কার জন্য, কাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কলঙ্কিত হল???আজকের এই ঘটনাটি একপক্ষীকভাবে দেখলে চলবে না। এটা একদিনে হয় নি। একদিনেই এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি মুরারিচাঁদে।

    ছাত্রলীগের কমিটি চাইদিতে হবে দিতে হবেহুম আপনারা যারা কমিটির জন্য দুদিন পর পরই চিল্লাচিল্লি করেন।ফেসবুক ওয়াল ফাটিয়ে দেন। একবারও কি ভাবেন না,যে কেন বিগত ১৪ বছর থেকে এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ তাদের ইউনিট দিচ্ছে না। গোলাম রব্বানীর বক্তব্য আমি নিজেও এনেছি। আপনাদের প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কোন আস্থাভরসা নেই।বছরে একটা টা মার্ডার করবেন, ছাত্রাবাস ভাংচুর করবেন, গরীর ছাত্র ছাত্রীদের হোস্টেল থেকে বের হতে বাধ্য করবেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচণ করবেন, মতের মিল না হলেই মারধর শুরু করবেন, শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করবেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে হামলা করবেন, দুদিন পর পরই নিজেদের মধ্যে কিলাকিলি করবেনএসবের পরেই আবার বৈধতা জন্য চিল্লাচিল্লি করেন। অবৈধভাবেই ক্যাম্পাসে যে ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি আপনাদের বৈধতা দেয় অবস্থা কি হতে পারে নিজেরাই অনুধাবন করুন

    আজকে ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী নীতিকথা শুনাচ্ছেন।মিডিয়ার সামনে তাদের শাস্তি দাবি করছেন।বিভিন্ন সময় আপনারাই এসব কীটদের অন্যায় কাজে সমর্থন দিয়ে গেছেন। কখনো বা সহযোগিতাও করেছেন। ক্যাম্পাসে নিজেদের ক্রাসের রাজত্ব তৈরি করে রেখেছেন। আপনাদের মতের বাইরে গেলে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর নাম কি ছাত্রলীগ? এটা সন্ত্রাসলীগ, ছাত্রলীগ না।

    আর প্রশাসন আপনারা বরাবরই নিরব কেন? এর পেছনের রহস্যটা কি? আজকের ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না আপনারাও। এই পরিবেশ একদিনে হয়নি, ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদল ক্ষমতায় যেই থাকুক, আপনাদের নতজানু নীতির কারণেই ওরা এতোটা ভয়ংকর হয়ে ওটে। নির্যাতিত হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা,আক্রান্ত হয় আমার ক্যাম্পাস

    আশরাফ আহমেদ,
    যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি
    ২৬০৯২০

    ২০১৩ সালে সিলেটের উদীয়মান শিক্ষানবীশ সাংবাদিক মায়রুফ আহমদ খান (মুন্না)কে এমসি ক্যাম্পাসে হত্যার হুমকি দেন এই সাইফুর ও তার সাথের কতিপয় সন্ত্রাসীরা। ২৭ সেপ্টেম্বরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মায়রুফ আহমদ খান এবিষয়ে একটি পোস্ট দেন। এছাড়া টিলাগড়কেন্দ্রীক গডফাদারের নাম উল্লেখ করে নিউজ করায় হোয়াটসএপে আবারো হত্যার হুমকি দেওয়া হয় তাকে।

    মায়রুফ আহমদ খান (আমার নিজের আইডি) থেকে করা পোস্টটি পোর্টালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরলাম-
    রেপিস্ট সাইফুলকে আইনের আওতায় এনে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিতের আহবান জানাচ্ছি

    এমসি কলেজে যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুলের ছবি খুব ভালো করে দেখে দেখে নিশ্চিত হলাম এই সেই কুলাংগার যার সাথে আমার ২০১৩ সালের শেষদিকে এমসির ক্যাম্পাসে বাকবিতন্ডা হয়েছিলো। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে খুনের হুমকি দিয়েছিলো সে।

    ২০০৮সালে আমি এমসির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অনার্সের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তীতে ২০১১সালে এমসি ছেড়ে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। ২০১৩ সালের শেষের দিকে একাডেমিক কাজ শেষে আমার এক কাজিনকে (মেয়ে) নিয়ে এমসির ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম

    সন্ধ্যার আজান হবে হবে এমন সময় এই সাইফুলসহ আরো ৬জন এসে টিজ করতে শুরু করে। কাজিন সাথে কি করবো না করবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না। আবার কোন জবাব না দিয়ে থাকতেও পারছিলাম না। ওই বখাটে গুলা চাইছিলোই যাতে আমি কোন রিয়েক্ট করি যাতে তারা এসে হ্যারাসমেন্ট করতে পারে।

    তাদের ভাষা এতো নিকৃষ্ট ছিলো যে প্রতিবাদ করতে বাধ্য। আমি একজন শিক্ষানবীশ সাংবাদিক এই কথা বলে তাদের বাজে কমেন্টের প্রতিবাদ করতেই আমাকে বিএনপিজামাতের দালাল বলে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দিতে শুরু করলো। গালাগালি তো করতেছেই। আমার সাথে থাকা আমার কাজিনকে (তাদের ভাষায়মাল‘) উঠিয়ে নিয়েরেপকরার হুমকি দিলো। আমিও তাদের সাথে বাকবিতন্ডা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে জামাতবিএনপির দালাল বলার সাথে সাথে আমি তাদেরকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছূড়ে দিয়ে তোমরা কিসের ছাত্রলীগ, কোন গ্রুপের ছাত্রলীগ?

    আমার কথা বলার ধরণ দেখেই তারা কিছুটা আচ করতে পেরেছিলো যে আমিবল্লা কাস্টমারনই।এরই মাঝে তারা মোবাইল বের করে আমার আর আমার কাজিনের ছবি তুলে রাখে। আমার কাজিনের ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে পতিতা বানিয়ে দিবে এমন হুমকি দিতে থাকে

    আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে স্থানীয় কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ভাইকে কল দিতে যাবো ওই সময় আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয় সাইফুলের সাথে থাকা একজন। ২০০৮ থেকে সমকাল পত্রিকার পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার পাঠক সংগঠন বন্ধু প্রতিদিনে আমি যুক্ত ছিলাম। তাই তখন থেকেই আজাদ ভাইয়ের সাথে পরিচয় ছিলো, স্নেহ করতেন আমাকে। যাহোক, ডায়াল নাম্বারে আজাদ ভাইর নাম্বার দেখে মোবাইল আমার হাতে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে ওই ছাত্রলীগ নাম বিক্রি করে খাওয়া বখাটেরা

    পরদিন আমি খোজ খবর নেই। এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের খুজতে থাকি। পরিচয় পাওয়ার পর সিলেট সরকারী কলেজে লেখাপড়া অবস্থায় কলেজের আমার রাজনৈতিক অভিবাবক দেবাংশু দাস মিঠু দাদাকে অবগত করি। এছাড়া হিরন মাহমুদ ভাইকেও বিষয়টি অবগত করি। পরবর্তীতে বখাটেরা দেবাংশু দাদার কাছ থেকে আমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে দায়সাড়াভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে ঘটনাটি শেষ করার অনুরোধ জানায়।

    এখানে আমার কাজিন জড়িত থাকায় আমি আর এই বিষয়টি নিয়ে এগোইনি। তবে, আমার কাজিনের যে ছবি তুলে রেখেছিলো এই বিষয়টা আমার বন্ধু সহযোদ্ধার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের তৎকালীন একজন নগর সাংগঠনিক সম্পাদক নেতাকে জানিয়ে রাখি। তিনি ওই বন্ধুকে আশ্বস্ত করেন এসব ছবি নাকি ওরা ইতিমধ্যেই ডিলেট করে ফেলেছে

    সত্যি বলছি, এরপর আর কোনদিন লজ্জায় হোক আর ভয়ে হোক কাজিন, বান্ধবী নিয়ে কখনো এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার সাহস করিনি

    আমার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে এর জন্য হিংসাপরায়ন হয়ে নয় বরং এমসি কলেজে স্বামীর সামনে যে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে এই কুলাংগারের বাচ্চারা এই ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছিআজ রাতেই এই রেপিস্টদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়া হোক

    এখানেই শেষ নয়। এমসি কলেজে এই গডফাদারদের পালিত সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিলেটের আরো অনেক জাদরেল সাংবাদিক। ২০১৩ সালের ১৯মে এমসির ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত পংকজ গ্রুপের সাথে স্থানীয় কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আজাদ-রঞ্জিত গ্রুপের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করার কারণে পুলিশের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আজাদ-রণজিৎ গ্রুপের কর্মীরা সময় টিভির রিপোর্টার আব্দুল আহাদ ও ক্যামেরা পারসন নওশাদ আহমদকে বেধড়ক মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নেন। এছাড়া, ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন ৪ জন সাংবাদিক। এমসি কলেজের সংস্কৃতি সংগঠন মোহনা’র বসন্ত উৎসবের সময় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হন দৈনিক সমকালের আলোকচিত্রী ইউসুফ আলী, সিলেট ভয়েস ডটকমের আলোকচিত্রী মিঠু দাস জয়, ভোরের কাগজের আলোকচিত্রী অসমিত অভি ও সিলটিভি ডটকমের ক্যামেরাপার্সন কাউসার আহমদ। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকার বলয়ের  অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী রুহেল আহমদ, ইমতিয়াজ ও শাহীনের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়।

    সিলেটে সাংবাদিক নির্যাতন করেও বারবার পার পেয়ে যায় ছাত্রলীগের এসব ক্যাডাররা। পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের উপরে হামলা করা হলেও বরাবর পুলিশ থাকে নীরব ভূমিকায়। আর তাই থানায় মামলা দিয়েও কোন লাভ হয় না গডফাদার কর্তৃক পালিত এসকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। শুধু এমসি ক্যাম্পাস নয় পুরো সিলেটে সাংবাদিক নির্যাতন এখন ‘পানি-ভাত’ এসকল সন্ত্রাসীদের জন্য। জীবনের ঝুকি নিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূরীকরণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পৃশ্রম করে যাওয়া সাংবাদিকরাই যদি এমন হামলার শিকার হন তবে বাংলাদেশ কি করে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি হবে?

    সিলেটবিবিসি২৪/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০/মায়রুফ

    facebook comments












    © All rights reserved © 2020 sylhetbbc24.com
    পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ